ভূমিকা
ট্রাফিক আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে মোটরযান চালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং কিংবা অন্য যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ধারা ৮৭ কি, ৮৭ ধারায় কেন মামলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ধারা ৮৭-এর শাস্তি কত, ৮৭ ধারায় জরিমানা কত । এসব প্রশ্নের সহজ উত্তর জানার জন্য পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৮৭ কি?
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৮৭ হলো ধারা ৪৪-এর বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি নির্ধারণকারী একটি ধারা। যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৪-এ নির্ধারিত মোটরযানের গতিসীমা বা নিরাপদভাবে মোটরযান চালানোর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ধারা ৮৭ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মামলায় পড়লে করণীয় কি জেনে রাখুন !
ধারা ৪৪ অনুযায়ী কী কী নিষেধ করা হয়েছে?
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারায় মূলত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিষেধ করা হয়েছে-
- নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
- বেপরোয়া বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরযান চালানো যাবে না।
- বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং করা যাবে না।
- অননুমোদিতভাবে ওভারটেকিং করা যাবে না।
- এমন কোনোভাবে গাড়ি চালানো যাবে না, যাতে অন্য মোটরযানের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
আরও সহজ করে বললে
ধারা ৪৪ অনুযায়ী একজন চালককে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বা অননুমোদিতভাবে অন্য গাড়িকে ওভারটেক করা যাবে না। একই সঙ্গে অন্য যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করাও নিষিদ্ধ।
ট্রাফিক সাইন কাকে বলে, ট্রাফিক সাইন কত প্রকার ও কী কী?
৮৭ ধারায় কেন মামলা হয়?
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ধারা ৮৭-এ মামলা মূলত ধারা ৪৪-এর বিধান লঙ্ঘনের কারণে হতে পারে। অর্থাৎ যদি কোন ব্যক্তি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৪৪ ধারা লঙ্ঘনের করে তাহলে ৮৭ ধারায় মামলা হবে।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ধারা ৮৭-এর শাস্তি ও জরিমানা
কোনো ব্যক্তি ধারা ৪৪-এর বিধান লঙ্ঘন করলে তা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ মাসের কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
অর্থাৎ, ৮৭ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ মাসের কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চালকের ক্ষেত্রে শুধু কারাদণ্ড বা জরিমানার বিষয়ই নয়, অতিরিক্তভাবে ১টি দোষসূচক পয়েন্ট কর্তনের বিধানও রয়েছে।
নোট: আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা-এটা হবেই এমন নয়। কারাদন্ড নাও হতে পারে কিংবা যে কোন অংকের জরিমানা (যেমন ৫০০ টাকা) হতে পারে। এক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ, প্রমাণ এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় বিবেচনা করে আদালত বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কি কি যোগ্যতা লাগে?
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৮৭ ধারা কী—এর সহজ উত্তর হলো, এটি মূলত আইনের ৪৪ ধারার বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির বিধান। ৪৪ ধারায় উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা বা বিধান ভঙ্গ করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ৮৭ ধারায় মামলা হয়। এ ধরনের অপরাধের জন্য অনধিক ৩ মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তাই ৮৭ ধারায় মামলা এড়াতে চালকদের সড়ক পরিবহন আইন মেনে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো উচিত। বিশেষ করে বেপরোয়া বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি না চালানো, নিরাপদভাবে ওভারটেক করা এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
