সরকার কি মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড বাতিল করতে পারেন?
(বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিশ্লেষণ)
বাংলাদেশে অপরাধের ধরন ও গুরুতরতার উপর ভিত্তি করে আদালত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে থাকে। অপরাধীরা অনেক সময় এসব রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে খালাস বা দণ্ড হ্রাসের আবেদন জানাতে পারেন। উচ্চ আদালত অনেক ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে, আবার অনেক সময় খালাসও দিয়ে থাকে।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনতবে, আদালতের রায়ের বাইরে থেকেও সরকার বা মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিশেষ ক্ষমতার মাধ্যমে কোনো অপরাধীর দণ্ডমুক্তি, দণ্ড হ্রাস বা মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে পারেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code)-এর ধারা ৫৪, ৫৫ ও ৫৫-ক-এ বিশেষ বিধান রয়েছে।
🔹 সরকার কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ (ধারা ৫৪)
দণ্ডবিধি আইনের ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে —
যে সকল অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে, সরকার তাদের সম্মতি ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে অন্য কোনো স্বল্প মেয়াদের দণ্ডে (যেমন যাবজ্জীবন বা নির্দিষ্ট মেয়াদী কারাদণ্ড) রূপান্তর করতে পারে।
🔹 সরকার কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাসকরণ (ধারা ৫৫)
দণ্ডবিধি আইনের ৫৫ ধারায় বলা হয়েছে —
যে সকল মামলায় অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সরকার অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই সেই দণ্ড হ্রাস করে ২০ বছরের বেশি নয় এমন যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারে।
🔹 রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতা (ধারা ৫৫-ক)
দণ্ডবিধি আইনের ৫৫-ক ধারায় বলা হয়েছে —
যেসব ক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানগত বিশেষ ক্ষমতা বলে খালাস, দণ্ড হ্রাস বা মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করেন, সেসব ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৫৪ ও ৫৫ ধারা প্রযোজ্য হবে না।
অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এখানেও সর্বোচ্চ ও স্বাধীন।
⚖️ সারসংক্ষেপ:
-
সরকার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ড হ্রাস করতে পারে।
-
রাষ্ট্রপতি বিশেষ ক্ষমতায় সম্পূর্ণ খালাস বা দণ্ড বাতিলও করতে পারেন।
-
এসব ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য অপরাধীর সম্মতি প্রয়োজন হয় না।
