ওয়ারিশ সনদপত্র (Heir Certificate) হলো এমন একটি সরকারি প্রত্যয়নপত্র, যেখানে কোনো মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের (ওয়ারিশদের) নাম, সম্পর্ক এবং ঠিকানা উল্লেখ থাকে। বাংলাদেশে জমি, ব্যাংকের অর্থ, পেনশন, নামজারি এবং অন্যান্য উত্তরাধিকারসংক্রান্ত কাজে এই সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই নিবন্ধে জানবেন ওয়ারিশ সনদ কী, ওয়ারিশ সনদ করতে কি কি লাগে, কোথা থেকে পাওয়া যায়, আবেদন করার নিয়ম, কত টাকা লাগে।
ওয়ারিশ সনদপত্র কী?
ওয়ারিশ সনদপত্র হলো একটি সরকারি প্রত্যয়নপত্র, যা প্রমাণ করে কোনো মৃত ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারী কারা। এটি সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ইস্যু করে।
তবে মনে রাখতে হবে, ওয়ারিশ সনদ জমির মালিকানার দলিল নয়। এটি কেবল মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে।
জমি রেজিস্ট্রি খরচ কত ২০২৬–২০২৭? সর্বশেষ আপডেট
ওয়ারিশ সনদ কি কি কাজে লাগে
কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি, অর্থ বা অন্যান্য অধিকার কারা আইনগতভাবে ভোগ করবেন, তা প্রমাণ করার জন্য ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন হয়। এই সনদের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশে জমির নামজারি (Mutation), জমি বণ্টন, ব্যাংকের আমানত উত্তোলন, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি গ্রহণ, আদালতে উত্তরাধিকার প্রমাণ, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবার মালিকানা পরিবর্তন এবং শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র হস্তান্তর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, ওয়ারিশ সনদ সম্পত্তির মালিকানার দলিল নয়; এটি কেবল মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও সম্পর্কের সরকারি প্রমাণপত্র।
ওয়ারিশ সনদপত্র কোথায় পাওয়া যায়?
আপনার স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী
- ইউনিয়ন এলাকায় হলে ইউনিয়ন পরিষদ
- পৌর এলাকায় হলে পৌরসভা
- সিটি করপোরেশন এলাকায় হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিস বা সিটি করপোরেশন

ওয়ারিশ সনদ করতে কি কি লাগে?
ওয়ারিশ সনদ করার জন্য আবেদনকারীর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য জমা দিতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন অফিসে আবেদন করে এই সনদ নেওয়া যায়। স্থানভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সাধারণত নিচের বিষয়গুলো প্রয়োজন হয়।
মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ
যার নামে ওয়ারিশ সনদ করা হবে, সেই মৃত ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন সনদের কপি জমা দিতে হয়। এটি মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও মৃত্যুর তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন হয়।
সকল ওয়ারিশের পরিচয়পত্র
মৃত ব্যক্তির সকল বৈধ উত্তরাধিকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি জমা দিতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ওয়ারিশদের জন্ম নিবন্ধন অবশ্যই অনলাইন ডাটাবেজে নিবন্ধিত (Online Verified) থাকতে হবে। যদি জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না থাকে, তাহলে আগে সেটি অনলাইনে নিবন্ধন বা হালনাগাদ করে নিতে হবে।
ওয়ারিশ সনদ করার নিয়ম
ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হয়। সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে সহজেই ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করা যায়।
১ ক্লিকে ওয়ারিশ সনদ তৈরী করুন
ধাপ ১: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
প্রথমে ওয়ারিশ সনদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন। যেমন মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ, সকল ওয়ারিশের পরিচয়পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
ধাপ ২: আবেদনপত্র পূরণ করুন
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। আবেদনপত্রে মৃত ব্যক্তি এবং সকল বৈধ ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
ধাপ ৩: আবেদনপত্র জমা দিন
আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিন। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সরকারি ফিও পরিশোধ করতে হবে।
ধাপ ৪: ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করুন
সব তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন অনুমোদন করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করে। এরপর আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদটি সংগ্রহ করতে পারেন।
নামজারি কী? জমির নামজারি করতে কত টাকা লাগে ২০২৭
ওয়ারিশ সনদ করতে কত টাকা লাগে?
ওয়ারিশ সনদের ফি দেশের সব জায়গায় এক নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে হয়।
কোনো কোনো এলাকায় সামান্য সরকারি ফি নেওয়া হয়, আবার কোথাও স্থানীয় বিধিমালা অনুযায়ী ভিন্ন ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রকাশিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী ওয়ারিশ সনদের সরকারি ফি সাধারণত ১০০ টাকা। কোনো কোনো ইউনিয়নে ৫০ টাকা বা ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপসংহার
ওয়ারিশ সনদপত্র উত্তরাধিকার প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। জমির নামজারি, ব্যাংকের অর্থ উত্তোলন, পেনশন, আদালতের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজে এটি প্রয়োজন হয়। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করুন, যাতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো যায়।
