বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সর্বোচ্চ পদ হতে সর্বনিম্ন পর্যন্ত মোট ১৩ টি পদবি রয়েছে। তার মধ্যে কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি পদে সরাসরি লোক নিয়োগ করা হত। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এএসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশে এএসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পুলিশের এই পদটি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবারের বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে জেলাভিত্তিক শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ তথ্য অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিটি ২০ এপ্রিল ২০২৬ প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে এ নিয়োগের লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষার সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। (Police Headquarters Bangladesh)
এএসআই বা Assistant Sub-Inspector হলো বাংলাদেশ পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এই পদে একজন পুলিশ সদস্যকে থানার দাপ্তরিক কাজ, রেজিস্টার ও নথি সংরক্ষণ, প্রাথমিক পুলিশি কার্যক্রম, টহল এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়। অভিজ্ঞতা ও বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে পদোন্নতির সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য ও ২০২৬ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে এএসআই পদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
সাব ইন্সপেক্টর বা এস আই নিয়োগ, ট্রেনিং, যোগ্যতা, দায়িত্ব ও বেতনভাতাদি বিস্তারিত।
এএসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ এর সংক্ষিপ্ত তথ্য
২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে পদের নাম ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র)। পদটির বেতন স্কেল জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১০,২০০ থেকে ২৪,৬৮০ টাকা, ১৪তম গ্রেড। বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদসংখ্যা একসঙ্গে উল্লেখ না করে জেলাভিত্তিক শূন্য পদের তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। আবেদন শুরু হয়েছিল ২৮ এপ্রিল ২০২৬ এবং শেষ সময় ছিল ২৭ মে ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। (Prothom Alo)

অর্থাৎ, বর্তমানে ২০২৬ সালের এই নিয়োগের আবেদন সময়সীমা শেষ হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নতুন এএসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে প্রার্থীদের নতুন বিজ্ঞপ্তির শর্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
এএসআই এর বেতন গ্রেড কত?
এএসআই পদে চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো সরকারি বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া। ২০২৬ সালের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এ পদের বেতন গ্রেড ১৪ এবং বেতন স্কেল ১০,২০০ থেকে ২৪,৬৮০ টাকা। প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী এই বেতন কাঠামো পাবেন।
শুধু মূল বেতন দেখলে এএসআই চাকরির আর্থিক সুবিধার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বের ধরন বিবেচনায় ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা, পোশাক এবং অন্যান্য অনুমোদিত সুবিধা রয়েছে । ২০২৬ সালের নিয়োগসংক্রান্ত তথ্যেও বিনামূল্যে পোশাক, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা ও রেশনের সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। (Kaler Kantho)
এখন দেখা যাক একজন এএসআই চাকরিতে যোগদান করার পর বেতন কত পাবে ? মূল বেতন যোগদান করার পর বেতন স্কেল ১০২০০, বাড়ি ভাড়া ৪০% হারে ৪০৮০, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা, ঝুকি ভাতা ২,১৬০, বিশেষ সুবিধা ২০০০, অন্যন্য ১০০০ , মোট ২০৯৪০ টাকা।
এএসআই পদে যোগদান করার পরই একজন পুলিশ সদস্য অবিবাহিত থাকা অবস্থায় উপরে উল্লেখিত বেতন ভাতা পাবেন। বিবাহিত হলে বেতন ভাতা ৪০০০-৫০০০ টাকার মত বাড়তে পারে। তবে একজন এএসআইয়ের হাতে মাস শেষে ঠিক কত টাকা থাকবে, তা শুধু মূল বেতন দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। পোস্টিং, প্রাপ্য ভাতা, কর্তন এবং অন্যান্য সরকারি বিধির ওপর প্রকৃত প্রাপ্তি নির্ভর করে টাকার পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে।
এএসআই এর কাজ বা দায়িত্ব ও কর্তব্য কি
এএসআইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। এজন্য তাকে নিয়মিত দায়িত্বধীন এলাকায় টহল দিতে হয়, বিশেষ করে রাতের টহল ডিউটিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কোনো অপরাধের খবর পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় পুলিশি ব্যবস্থা নিতেও হয়।
এছাড়া আসামি গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান এবং বিভিন্ন পুলিশি অভিযানে এএসআই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেন। মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং ছোটখাটো অপরাধের তদন্তেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সিআইডি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ ২০২৭: সিআইডি হওয়ার উপায়
থানায় দায়িত্ব পালন করার সময় এএসআইকে ডিউটি অফিসারের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে। তখন থানায় আসা অভিযোগ ও বিভিন্ন তথ্য গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতা করতে হয়।
এএসআইকে আদালত, মামলা ও অন্যান্য পুলিশি কাজেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করতে হয়। তবে সব এএসআইয়ের কাজ এক নয়। তিনি কোন থানা বা ইউনিটে কর্মরত এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কী দায়িত্ব দিয়েছেন, তার ওপর কাজের ধরন নির্ভর করে।
পুলিশের এএসআই হওয়ার যোগ্যতা
২০২৬ সালের এএসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রার্থীকে শিক্ষাগত, শারীরিক, বয়স এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫০ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন ছিল। (Prothom Alo)
বয়সের ক্ষেত্রে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট বিশেষ শ্রেণির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত ছিল। (Prothom Alo)
শারীরিক যোগ্যতাও এ চাকরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি হতে হয়েছে। নারী প্রার্থীর ন্যূনতম উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। উভয়ের দৃষ্টিশক্তির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মান পূরণ করতে হয়েছে। (Prothom Alo)
এ ছাড়া ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীকে অবিবাহিত হওয়ার শর্তও দেওয়া হয়েছিল এবং শিক্ষানবিশকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকার শর্ত ছিল। (Prothom Alo)
অর্থাৎ, শুধু এইচএসসি পাস করলেই এএসআই পদে চাকরি পাওয়া যায় না। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, বয়স, কম্পিউটার দক্ষতা, লিখিত পরীক্ষা, মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
তাছাড়া বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত কনস্টেবল ও নায়েক পদের সদস্যরা এএসআই হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা বিভাগীয়/অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মাধ্যমে এএসআই পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। সাধারণত চাকরির ৬ বছর পূর্ণ হলে এ সুযোগ পাওয়া যায়। পদোন্নতির পর সংশ্লিষ্ট সদস্যকে ৫৬ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।
এএসআই হতে পদোন্নতি কতটা পাওয়া যাবে?
এএসআই পদে চাকরি পাওয়ার পর ক্যারিয়ার থেমে যায় না। বরং বিভাগীয় নিয়ম ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত নথিতে এএসআই (নিরস্ত্র) থেকে এসআই (নিরস্ত্র),পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিএসপি) পদে পদোন্নতির একাধিক উদাহরণ রয়েছে।
ডিবি পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৭-২০২৮ | ডিবি পুলিশ হওয়ার যোগ্যতা
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এএসআই থেকে এসআই পদে পদোন্নতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কয়েক বছর চাকরি করলেই হয়ে যায় এমন ধারণা ঠিক নয়। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি, বিভাগীয় পরীক্ষা, যোগ্যতা, শূন্য পদ, চাকরির রেকর্ডসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আসে।
তাই দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার হিসেবে এএসআই পদটি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো চাকরির রেকর্ড, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে পরবর্তী ধাপে এসআই হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এএসআই চাকরির সুবিধা কী?
এএসআই পদটি সরকারি চাকরি হওয়ায় মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। প্রশিক্ষণকালেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ভাতা, পোশাক, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
চাকরিতে যোগদানের পর মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, পোশাক, চিকিৎসা ও নির্ধারিত নিয়মে রেশন সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া চাকরিতে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। যোগ্যতা ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দক্ষ পুলিশ সদস্যদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করার সুযোগও হতে পারে।
পুলিশের রেশনের পরিমাণ/সামগ্রী/তালিকাসহ তারা কি কি রেশন পেয়ে থাকেন বিস্তারিত।
সব মিলিয়ে বেতন, বিভিন্ন ভাতা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধার পাশাপাশি পদোন্নতি ও আন্তর্জাতিক মিশনে কাজের সুযোগ এএসআই চাকরিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এএসআই এর চাকরিতে ছুটি কত দিন?
এএসআই চাকরিতে ছুটির বিষয়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী নৈমিত্তিক, অর্জিত, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
বাস্তব দায়িত্বের ক্ষেত্রে একজন এএসআই সাধারণত বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং ৩০ দিন এলএপি বা গড় বেতনে ছুটি ভোগ করতে পারেন। ছুটিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বছরের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া যায়।
তবে পুলিশের চাকরিতে দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী ছুটি পাওয়া অনেক সময় পরিস্থিতিনির্ভর। ভিভিআইপি ডিউটি, নির্বাচন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ছুটি পাওয়া কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু কিংবা স্ত্রী-সন্তানের গুরুতর অসুস্থতার মতো জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে বিধি অনুযায়ী ছুটি পাওয়ার সুযোগ থাকে।
এএসআই এর ট্রেনিং কত দিন?
এএসআই পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন প্রার্থীকে শারীরিক, মানসিক ও পেশাগতভাবে পুলিশি দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।
প্রশিক্ষণে শারীরিক ব্যায়াম, দৌড়, প্যারেড, আইন শিক্ষা, অস্ত্র পরিচালনা, পুলিশি কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সাধারণত ভোরে শারীরিক ব্যায়াম, এরপর সকাল-বিকেলে প্যারেড, দিনের বিভিন্ন সময়ে আইন ও পুলিশি বিষয়ে ক্লাস এবং রাতে স্টাডি ক্লাস থাকে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য দায়িত্বও পালন করতে হয়।
র্যাব RAB কিভাবে হওয়া যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬
এক বছরের প্রশিক্ষণ বেশ কঠোর ও নিয়ম-শৃঙ্খলাপূর্ণ। নিয়মিত দৌড়ানো, প্যারেড ও শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়। আগে থেকেই ব্যায়াম ও খেলাধুলার অভ্যাস থাকলে প্রশিক্ষণের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়।
প্রশিক্ষণকালীন সময়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ভাতা, পোশাক, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে। সব মিলিয়ে এই প্রশিক্ষণ একজন এএসআইকে ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এএসআই চাকরিতে অসুবিধা কি কি?
এএসআই চাকরি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল হলেও এর কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যারা এই পেশায় আসতে চান, তাদের শুধু বেতন বা সরকারি চাকরির সুবিধা দেখলে হবে না; কাজের কঠিন দিকগুলোও আগে থেকে জানা দরকার।
প্রথমত, পুলিশের চাকরিতে কাজের সময় সবসময় নির্দিষ্ট থাকে না। জরুরি পরিস্থিতি, অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা সমস্যা বা বিশেষ অভিযানের কারণে রাতেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত সময় ও পারিবারিক সময়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, দায়িত্বের সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। অপরাধী আটক, অভিযান, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ বা বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণেই পুলিশ সদস্যদের জন্য ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পদবি সমূহ : পদক্রম, ব্যাজ ও চেনার উপায় (সম্পূর্ণ গাইড)
তৃতীয়ত, বদলি এ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। বাংলাদেশ পুলিশের ২০২৬ সালের নথিতেই এএসআইদের বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও পদায়নের উদাহরণ রয়েছে। অর্থাৎ চাকরির প্রয়োজনে নিজের পছন্দের এলাকার বাইরে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। (Police Headquarters Bangladesh)
চতুর্থত, মানসিক চাপও কম নয়। অপরাধ, দুর্ঘটনা, মানুষের অভিযোগ, বিরোধ এবং নানা ধরনের কঠিন পরিস্থিতি প্রতিদিন মোকাবিলা করতে হয়। তাই ধৈর্য, সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানসিক দৃঢ়তা এ পেশায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এএসআই চাকরি কার জন্য ভালো?
যারা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করতে পারেন, মানুষের সেবা করতে আগ্রহী, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাদের জন্য এএসআই পদ ভালো ক্যারিয়ার হতে পারে।
বিশেষ করে যারা পুলিশের চাকরির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এসআইসহ উচ্চতর পদে যেতে চান, তাদের জন্য এএসআই একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার পথ। তবে শুধু সরকারি চাকরির নিরাপত্তা বা বেতনের কথা চিন্তা করে এই পেশায় আসা উচিত নয়। কারণ এখানে দায়িত্ব, ঝুঁকি, বদলি এবং অনিয়মিত কর্মঘণ্টার মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে এএসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির সুযোগ। ২০২৬ সালের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগে ১৪তম গ্রেডে ১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ভাতা, পোশাক, চিকিৎসা, ঝুঁকি ভাতা, রেশন এবং ভবিষ্যতে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। (Prothom Alo)
তবে এএসআই হওয়া শুধু একটি লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করার বিষয় নয়। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়েই একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা তৈরি হন। এ কারণে যারা ভবিষ্যতে এএসআই পদে চাকরি করতে চান, তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, নিয়োগের বয়স, যোগ্যতা, শারীরিক মানদণ্ড, বেতন বা অন্যান্য শর্ত ভবিষ্যতের বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নতুন এএসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। (Police Headquarters Bangladesh)
