আপনি ধরুন, সুপার শপে গেলেন পণ্য কিনতে। কিন্তু বিক্রেতা হঠাৎ বলে দিলেন—“আমরা আপনার কাছে বিক্রি করতে চাই না।”
এমন পরিস্থিতিতে আপনি কী করবেন? হয়তো আপনি বলবেন, “বিক্রি করবেন না কেন? এর মানে কী?” অনেকে হয়তো তর্ক শুরু করবেন, আবার কেউ চুপচাপ অন্য দোকানে চলে যাবেন।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনসাধারণত এমন ঘটনা ঘটে না, কারণ বিক্রেতারা সবসময় ক্রেতাদের সম্মান করেন এবং বিক্রির চেষ্টা করেন। তবে, যদি সত্যিই এমন হয়—তাহলে প্রশ্ন আসে, বিক্রেতারা কি আইনি দিক থেকে ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রিতে বাধ্য?
⚖️ বাংলাদেশের আইন কী বলে?
বাংলাদেশে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে—
“ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯” (The Consumer Rights Protection Act, 2009)।
এই আইনের ৪৫ ধারায় বলা হয়েছে,
“কোন বিক্রেতা প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ করতে বা সেবা যথাযথভাবে প্রদান করতে বাধ্য।”
অর্থাৎ, বিক্রেতা যদি ক্রেতার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে, তবে সে বাধ্য পণ্য সরবরাহ করতে বা প্রতিশ্রুত সেবা দিতে।
যদি বিক্রেতা তা না করে, তাহলে এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
🚨 শাস্তির বিধান
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে—
যদি কেউ মূল্য পরিশোধের পরও পণ্য না দেয় বা সেবা যথাযথভাবে প্রদান না করে, তবে তার জন্য—
-
সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা
-
সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড,
-
অথবা উভয় দণ্ডই প্রদান করা যেতে পারে।
🧭 আইনটির উদ্দেশ্য
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো—
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা, যাতে কেউ প্রতারণা, অবহেলা বা অনৈতিক আচরণের শিকার না হয়।
এই আইন অনুযায়ী, ক্রেতা হিসেবে আপনার অধিকার আছে ন্যায্য মূল্যে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা পাওয়ার।
তাই, যদি কোনো বিক্রেতা অযৌক্তিকভাবে বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করে, আপনি চাইলে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন।
✅ উপসংহার
বাংলাদেশের আইনে বিক্রেতারা ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রয়ে বাধ্য, যদি তারা পণ্যের বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করে।
তবে বিক্রেতার ব্যক্তিগত বা নিরাপত্তাজনিত যৌক্তিক কারণ থাকলে তা ব্যতিক্রম হতে পারে।
সচেতন ক্রেতা হিসেবে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা ও প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়া সবার দায়িত্ব।
