অপরাধঃ
যে সকল কাজ আইনে করতে বলা হয়েছে তা না করলে অথবা যে সকল কাজ আইনে না করতে বলা হয়েছে তা করাই হল অপরাধ। ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ রয়েছে। অপরাধের ধরণ ও প্রকৃতি অনুসারে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধের শাস্তি হিসেবে জেল জরিমানা করা হয়। আবার কিছু অপরাধ করলে আইনে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। আজকে বাংলাদেশে প্রযোজ্য কোন অপরাধ করলে আপানার মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে তা আলোচনা করা হবে। পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লে নতুন তথ্য জানতে পারবেন।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনবাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধঃ
যদি কোন ব্যাক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে,করার উদ্যেগ গ্রহন বা সহায়তা করে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ১২১ ধারা)
মিথ্যা স্বাক্ষ্যঃ
যদি কোন ব্যাক্তি মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান করে এবং উক্ত মিথ্যা স্বাক্ষ্যের জন্য কোন নিরাপরাধ ব্যাক্তিকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ১৯৪ ধারা)
খুন করাঃ
যদি কোন ব্যাক্তি অন্য কোন ব্যাক্তিকে খুন করে তবে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারা)
যাবজ্জীবন দন্ডে দন্ডিত ব্যাক্তি কতৃক খুনঃ
যদি কোন ব্যাক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয়ে খুন করে তাহলে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ৩০৩ ধারা)
শিশুর বা উন্মাদ ব্যাক্তির আত্মহত্যায় সহায়তাঃ
কোনো ব্যাক্তি যদি শিশু, বয়ষ্ক বা অপ্রকৃতস্থ ব্যাক্তিকে আত্মহত্যায় সহায়তা করে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ৩০৫ ধারা)
যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত ব্যাক্তি কর্তৃক খুনের চেষ্টাঃ
যদি কোন ব্যাক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয়ে খুনের চেষ্টা করে তাহলে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ৩০৭ ধারা)
স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাতঃ
যদি কোন ব্যাক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে দুই চোখ উপড়াইয়া ফেলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ৩২৬(ক) ধারা)
খুনের উদ্দেশ্য অপহরণঃ
যদি কোন ব্যাক্তি ১০ বছরের কম বয়স্ক কোন শিশুকে খুন, গুরুতর আঘাত বা অপ্রকৃত কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য অপহরন করে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ৩৬৪(ক) ধারা)
খুনসহ ডাকাতিঃ
ডাকাতি করাকালে খুন করলে উক্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
(দন্ডবিধি আইনের ৩৯৬ ধারা)
বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুযায়ীঃ
যদি কোন ব্যক্তি মজুদদারী বা কালো বাজারী, কারেন্সি নোট বা সরকারি স্টাম্প জাল, চোরাচালান করে, ভেজাল দেওয়া খাদ্য,পানীয়,ঔষধ ও প্রসাধনী বিক্রয় করে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য আদালত মৃত্যুদন্ড দিতে পারে।
অস্ত্র আইন অনুযায়ীঃ
যদি কোন ব্যাক্তি অন্য কোনো ব্যাক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল, শর্টগান, নিজ হেফাজতে রেখে সজ্জিত থাকে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য আদালত মৃত্যুদন্ড দিতে পারে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ীঃ
দহনকারী ক্ষয়কারী, বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা নারীর মৃত্যু ঘটালে, নারী ও শিশু দৃষ্টি শক্তি, শ্রবণ শক্তি নষ্ট করলে, নারী পাচার করলে, শিশু পাচার করলে, নারীকে পতিতালয়ে বিক্রি করলে, ধর্ষণ করে কোন নারীর মৃত্যু ঘটালে, দলবদ্ধভাবে কোন নারীকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটালে,যৌতুকের জন্য মৃত্যু কোনো নারীর মৃত্যু ঘটালে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য আদালত মৃত্যুদন্ড দিতে পারে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ীঃ
হেরোইন বা কোকেন জাতীয় মাদকদ্রব্য, প্যাথিডিন, মরফিন,অপিয়াম, জাতীয় মাদকদ্রব্য হেফাজতে রাখলে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য আদালত মৃত্যুদন্ড দিতে পারে।
এসিড আইন অনুযায়ীঃ
এসিড দ্বারা মৃত্যু ঘটালে বা আহত করলে তাহলে উক্ত অপরাধের জন্য আদালত মৃত্যুদন্ড দিতে পারে।
(যদি কোনো ব্যাক্তি এই পোস্টে বর্ণিত অপরাধসমূহ করে থাকে ও উক্ত অপরাধ প্রমানিত হয়। তাহলে বাংলাদেশের আদালত সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করতে পারে)
