আমরা সবাই জানি চিকিৎসার সময় রোগী মারা গেলেও ডাক্তারের অপরাধ হয় না। অনেক সময় ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলা হয়। কিন্তু তা সত্বেও লক্ষ্য করে দেখবেন বেশিরভাগ সময় ডাক্তারের সাজা হয় না। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগই করা যায় না। কিন্তু কেন তাদের অপরাধে হয় না, তা হয়তো আমরা গভীরভাবে চিন্তা করি না। প্রকৃতপক্ষে এর যেমন মানবিক দিক রয়েছে তেমনি আইনগত দিকও রয়েছে। চিকিৎসার সময় রোগী মারা গেলে ডাক্তারের কেন অপরাধ হয় না এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।
১ম কারনঃ
ডাক্তাররা রোগীদের চিকিৎসার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। তাদের মৃত্যু পথযাত্রী অনেক রোগীর চিকিৎসা করতে হয়। সব রোগীকে হয়ত তাদের বাচানো সম্ভব না। তবুও ডাক্তারদের মত মহান পেশার লোকেরা নিজেদের সর্বোচ্চ জ্ঞান ও মেধা দিয়ে রোগীর চিকিৎসা করার চেস্টা করে থাকেন। প্রশিক্ষণের সময় বিষয়টি ভালোভাবে বুঝানো হয়। মানুষ যাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা পায় তা তাদের পেশার মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হিসেবে শেখানো হয়। এ জন্য ডাক্তাররা কখনও চিকিৎসায় অবহেলা করেন না। তাই ডাক্তারের চিকিৎসার সময় মৃত্যু হলে বিষয়টি নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকে না।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন২য় কারণঃ
ডাক্তার যখন কারো চিকিৎসা করেন তখন তাদের জ্ঞানের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেস্টা করেন। তাছাড়া যে সকল চিকিৎসার বিষয়ে মৃত্যুর আশংকা থাকে সে সকল ক্ষেত্রে রোগী বা তার আত্মীয় লিখিত নেওয়া হয়, যাতে লেখা থাকে”চিকিৎসার সময় মৃত্যু হলেও ডাক্তার দায়ী থাকবেন না”। তাই পরবর্তীতে রোগীর সমস্যা হলেও রোগী কিংবা তার আত্মীয়গণের অভিযোগ করার সুযোগ থাকে না।
৩য় কারণঃ
উপরের কারণগুলো ছাড়াও ডাক্তারদের মত মহান পেশার লোকদের পেশাগত দায়িত্ব নির্বিঘ্নে পালন করার জন্য একটি আইন রয়েছে। দন্ডবিধি আইনে ৮৮ ধারায় বর্ণিত রয়েছে “ডাক্তার কর্তৃক রোগীর মঙ্গলের জন্য রোগীর সম্মতিক্রমে বা সস্মতিছাড়া চিকিৎসার জন্য কৃত কোন কাজ করলে তাতে রোগীর ক্ষতি হলেও অপরাধ হবে না”।
তাছাড়া দন্ডবিধি আইনে ৮৯ ধারায় বর্ণিত রয়েছে “ডাক্তার কর্তৃক কোন শিশুর মঙ্গলের জন্য শিশুর অভিভাবকের সম্মতিক্রমে চিকিৎসার জন্য ডাক্তার কৃত কোন কাজ করলে তাতে শিশুর ক্ষতি হলেও অপরাধ হবে না”।
তবুও ডাক্তার কর্তৃক চিকিৎসার সময় ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে থাকে। এক্ষেত্রে যদি কোন প্রমাণ থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বর্ণনা অনুযায়ী মামলা রুজু বা অভিযোগ করলে আইনগত সাহায্য পাওয়া সম্ভব। তবে সাধারণত ডাক্তারগণের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করা না।
