জিডি কি (What is a General Diary):
জিডি (General Diary) বা সাধারণ ডায়েরী থানার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজিষ্টার। প্রতিটি থানায় সাধারণ ডায়েরী রয়েছে। থানা এলাকায় সংঘটিত চুরি , ডাকাতি, খুন,অপমৃত্যু ঘটনা, নিখোঁজ সংবাদ, আসামী গ্রেফতার, আসামী চালান, মহামারি, আইন শৃঙ্খলা অবনতি সংবাদ, হারানো কাগজপত্র, যেমনঃ-এনআইডি, পাসপোর্ট, চেক বহি, জন্ম নিবন্ধন , দলিল , গাড়ীর কাগজপত্র, স্কুল সার্টিফিকেটসহ হারানো যে কোন দলিল বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে পারবেন।এই জিডি ভবিষ্যতে নতুন কাগজপত্র ইস্যু করার সময় আইনি প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজন হয়। তাছাড়া থানায় জিডি করলে সেটি পুলিশের অফিসিয়াল রেকর্ডে থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। থানায় জিডি করতে কি কি কি লাগে জানার পূর্বে জিডি কত প্রকার জানা প্রয়োজন।
জিডি সাধারণ দুই প্রকার যথা যেমনঃ
১) হারানো জিডি।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন২) অভিযোগ জিডি।
হারানো জিডিঃ
সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন সনদ, এসএসসি / এইচএসসি / বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা যানবাহনের কাগজপত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক চেকবই / এটিএম কার্ড, ভূমি দলিল, খতিয়ান বা রেকর্ড, মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কোন কাগজপত্র হারানোর পর থানায় যে জিডি করা হয় তাকে হারানো জিডি বলে। হারানো জিডি করতে নিম্নবর্ণিত তথ্য সরবরাহ করতে হয়।
জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি কতটা কার্যকর।
১) হারানো ডকুমেন্টের ফটোকপি।
২) ফটোকপি না থাকলে ডকুমেন্টের নাম ও নাম্বার।
৩) নিজের নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর।
৪) প্রয়োজনে হারানোর সময়কার প্রমাণ বা রসিদ।
৫) মোবাইল হারানো ক্ষেত্রে আইএমইআই নাম্বার।
৬) আইএমইআই নাম্বার না থাকলে মোবাইল নাম্বার ।
৭) হারানোর স্থান,ঘটনার তারিখ ও সময়।
ভিডিও দেখুন
অভিযোগ জিডিঃ
সংঘটিত যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা যায়। বড় ধরনের অপরাধ যেমন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, রাহাজানি, ধর্ষন, মাদক এর মত অপরাধের ক্ষেত্রে থানায় জিডি না করে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ ডায়েরী করা হলেও পরবর্তীতে মামলা করা হয়। যে সকল ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া যায় না বা আমলের অযোগ্য সেসব ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরী করা হয়। অভিযোগ জিডি সংক্রান্তে থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে নিম্নবর্ণিত তথ্যগুলো লাগবে।
১) আসামীর নাম, পিতার নাম, গ্রাম, থানা ও জেলার নাম (জানা না থাকলে অজ্ঞাতনামা লিখলেও হবে)।
২) সাক্ষীদের নাম, পিতার নাম, গ্রাম,থানা ও জেলার নাম।
৩) ঘটনাস্থলের বর্ণনা।
৪) ঘটনার বিবরণ ও অপরাধের ধরণ।
৫) আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার।
৬) কোনো প্রমাণ যেমন ছবি, ভিডিও বা মেডিকেল রিপোর্ট (যদি থাকে)।
থানায় জিডি করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শঃ
১) থানায় জিডি করার জন্য আলাদা লোক নিয়োগ নেই তাই নিজেকে জিডি লেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে ( হারানো জিডির ক্ষেত্রে ১০০/২০০ টাকা এবং অভিযোগ জিডির ক্ষেত্রে ৩০০/৫০০ টাকা দিতে হয়) ।
২) হারানো জিডি দ্রুত করা হয়, তাই জিডি নাম্বার, তারিখ ও ডিউটি অফিসারের স্বাক্ষর সম্বলিত অপর কপি সাথে সাথে সংগ্রহ করুন।
৩) মোবাইল হারানোর জিডির ক্ষেত্রে সাধারণত জিডি নাম্বার, তারিখ ও ডিউটি অফিসারের স্বাক্ষর সম্বলিত কপি সরবরাহ করা হয় না।
৪) অভিযোগ সংক্রান্ত জিডির বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত হবে, এমন কোন ব্যবস্থা নেই যেখানে গোপনে জিডি করে রাখা হয়।
৫) অভিযোগ সংক্রান্ত জিডি করলে ২/৪ দিনের মধ্যে তদন্ত শুরু হয়।
৬) অভিযোগ সংক্রান্ত জিডির বিষয়ে তদন্তকারী অফিসারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।
