মিথ্যা মামলাঃ বর্তমানে মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার মত ঘটনা অহরহ ঘটছে। আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা না থাকায় মামলা দিলে করণীয়,বর্জনীয় ও মামলায় গ্রেফতার থেকে বাচার উপায় সম্পর্কে অনেকে গাইডলাইন পায় না । অথচ মিথ্যা মামলা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে যে কোন সময় গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মিথ্যা মামলা দিলে করণীয় এবং গ্রেফতার এড়াতে সব সময় সতর্কতা জরুরি।
মিথ্যা মামলা দিলে করণীয় ও গ্রেফতার থেকে বাচার উপায়ঃ
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনপ্রতিটি দেশের আইন ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য। যদি মনে করেন আপনার নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে তাহলে অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না, শান্ত থাকুন। কি ধরনের মামলা হয়েছে খোঁজ করুন। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মামলার ভিন্নতা থাকতে পারে। মামলা থানায় অথবা আদালতে যে কোন জায়গায় হতে পারে। বেশিরভাগ মামলা সাধারণত থানায় হয়। যাই হোক থানায় অথবা আদালতে যে কোন জায়গায় মিথ্যা মামলা হোক না কেন মামলা থেকে রেহাই পেতে পরিপূর্ণ গাইড লাইন নিচে দেওয়া হল।
০১। থানায় ছোটখাট অপরাধে (অধর্তব্য অপরাধ) সাধারণত জিডি করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তকারী অফিসার তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে আদালতের অনুমতি নিয়ে ননজিআর মামলা রুজু করেন। এক্ষেত্রে মামলার প্রথম দিকে মামলার তদন্তকারী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন। তিনি আপনাকে নিরপরাধ মনে করলে নাম বাতিল করতে পারেন। আইনে এই ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
থানায় মামলা করার নিয়ম ও মামলার নমুনা কপি (ছবি)।
০২। সাধারণত বড় ধরনের অপরাধ (ধর্তব্য অপরাধ) এর ক্ষেত্রে থানায় জিআর মামলা রুজু হয়। একে রাষ্ট্রবাদী মামলা বা সরকারপক্ষ মামলাও বলা হয়। দেশের মোট মামলার প্রায় ৮০% এই জিআর মামলা। এই মামলা পেনাল কোড (মারামারি, চুরি, ডাকাতি, খুন), মাদকদ্রব্য, নারী ও শিশু, চোরাচালান, যৌতুক যে কোন আইনে হতে পারে। এক্ষেত্রে জিআর মামলা হলেও মামলার তদন্তকারী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে আপনার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় মর্মে নিজ বক্তব্য পেশ করতে পারেন। অবশ্য আমল যোগ্য, জামিন অ যোগ্য অপরাধ বা বড় ধরনের অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিজে স্ব শরীরে যাওয়া উচিত নয়। তাহলে গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
০৩। আদালতে মামলা হলে সিআর মামলা হবে। এক্ষেত্রে মামলাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে। মামলাটি একজন তদন্তকারী অফিসার তদন্ত করবে। আপনি নিরপরাধ হলে বিষয়টি তদন্তকারী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে অবহিত করতে পারেন।
০৪। মিথ্যা মামলা দিলে প্রধান করণীয় হিসেবে আপনি ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তার প্রমাণাদি যেমন, অন্যত্র অবস্থানের বিষয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, কললিষ্ট, বিভিন্ন দলিল, অডিও রেকর্ড, চিঠিপত্র বা অন্যন্য সকল প্রকার স্বাক্ষ্য সংগ্রহ করে রাখুন।
০৫। মামলা হলেই কোন ব্যাক্তি অপরাধী নয় বিষয়টি মনে রাখা উচিত। সিআর, ননজিআর, জিআর, জিডি বা অপমৃত্যু যেকোন মামলা হলে একজন তদন্তকারী অফিসার নির্দিষ্ট তদন্ত করবে। সেক্ষেত্রে তদন্তকারী তদন্ত করে কোন ব্যাক্তির নাম যোগ করে বা বাতিল করে আদালতে রিপোর্ট দিতে পারে। তদন্তকারী অফিসারের সাথে মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
০৬। কোন বড় অপরাধে অভিযুক্ত হলে আপনি নির্দোষ হলে তদন্তকারী অফিসারের সাথে স্ব শরীরে যোগাযোগ করলে গ্রেফতার হতে পারেন। তাই অন্য কোন ব্যাক্তির মাধ্যমে তদন্তকারী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন।
০৭। থানায় জিআর মামলা বা কোর্টে বড় ধরনের মিথ্যা মামলা দিলে সাথে সাথে করণীয় হল মামলার কাগজপত্রসহ একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করা। মিথ্যা মামলায় পলাতক থাকলে ঘটনা আরো জটিল হতে পারে। তবে মামলায় পলাতক থাকলে আদালতে আত্মসমপর্ণ করবেন কি না বা কখন আত্মসমপর্ণ করবেন সে বিষয়ে আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।
০৮। মিথ্যা মামলা দিলে আদালতের নির্দিষ্ট দিন ও তারিখে নিয়মিত হাজিরা দিবেন। না হলে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যূ হতে পারে।
০৯। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার চার্জশিট থেকে আপনার নাম বাতিল করে দেয় তাহলে ভালো। আর যদি বাতিল না করে তাহলে দুশ্চিন্তা করবেন না। নিয়মিত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করে মামলার মোকাবেলা করুন।
১০। অনেকে থানায় অভিযোগ হয়েছে বা সম্ভাবনা রয়েছে শুনেই ঘাবড়ে যায়। মামলার গঠন ধরণ অভিযোগ কি তার বিশ্লেষণ করুন। সিআর, জিআর বা ননজিআর মামলা হলে তদন্তকারী অফিসারের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি একজন বিজ্ঞ আইনজীবী শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ নিন।
কিভাবে জামিন নিবেন, জামিনের পদ্ধতি।
১১। মামলা হলে তার নকল উত্তোলন করুন। মামলায় আপনার বিরুদ্ধে ঠিক কি ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে, কত নম্বর আসামি করা হয়েছে জানুন। কারণ অভিযোগের ধরণের প্রেক্ষিতে মামলার গতি প্রকৃতি অনেকটা নির্ভর করে। যদি জামিন যোগ্য অপরাধে মামলা হয় তাহলে আদালতে আত্মসমপর্ণ করলে সহজে জামিন পাবেন। মিথ্যা মামলা দিলে করণীয়, মামলায় গ্রেফতার থেকে বাচার উপায় আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আরেকটি উল্লেখ যোগ্য বিষয় হল যে কোন আইনে আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হোক না কেন। প্রতিটি আইনে মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাক্ষ্য প্রমাণে আদালতের বিচারে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন।প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা মামলা দায়ের কারীর বিরুদ্ধে আইনে বিধান থাকলেও এর প্রচলন তেমন একটা দেখা যায় না। তবে মিথ্যা মামলাকারী বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করলে কতটা কার্যকরী হবে সেটা আপনার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় আদালতের রায়ের উপরেও অনেকটা নির্ভর করে।
