আত্মরক্ষার ব্যাক্তিগত অধিকার
নিজের জানমাল ও অপরের জানমাল রক্ষার জন্য আক্রমণকারীর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য যে অধিকার প্রয়োগ করা হয় তাই আত্মারক্ষার ব্যাক্তিগত অধিকার।দন্ডবিধি আইনের ৯৯ ধারার বিধিনিষেধ সাপেক্ষে দণ্ডবিধি আইনের ১০০ ধারা মতে দেহ রক্ষা ও ১০৩ ধারা মতে সম্পত্তি ও দেহ রক্ষার জন্য আক্রমণকারীকে আত্মরক্ষার জন্য খুন করা যায়। আজকের পোস্টে যে সকল ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্য খুন করলেও অপরাধ হবে না তার বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনযে সকল ক্ষেত্রে দেহ রক্ষার জন্য মৃত্যু ঘটানো যায় তা আলোচনা করা হল।
দণ্ডবিধি আইনের ১০০ ধারা অনুযায়ী
০১।এমন আক্রমণ করা হলে যার প্রকারন্তরে মৃত্যু হবে একামাত্র কারন।
০২। আক্রমণ করা হলে যার ফলে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে (দঃ বিঃ ৩২০ ধারায় গুরুতর আঘাতের বর্ণনা আছে)
০৩।ধর্ষণের অভিপ্রায়ে আক্রমণ করা হলে।
০৪। অপ্রকৃত কাম লালসা চরিতার্থ করনের অভিপ্রায়ে আক্রমণ করা হলে।
০৫। অপহরণের উদ্দেশ্য আক্রমণ করা হলে।
০৬। এইরুপ পরিস্থিতিতে কোন ব্যাক্তিকে অবৈধভাবে আটক রাখিবার অভিপ্রায়ে আক্রমণ, যেই পরিস্থিতির জন্য এইরুপ আতঙ্ক সৃষ্টি হইবার সম্ভাবনা থাকে যে তাহার মুক্তির জন্য সে সরকারি কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নিতে অসমর্থ হইবে।
যে সকল ক্ষেত্রে সম্পত্তি রক্ষার জন্য মৃত্যু ঘটানো যায় তা আলোচনা করা হল
দণ্ডবিধি আইনের ১০৩ ধারা অনুযায়ী
০১। দস্যুতা
০২। রাত্রিবেলায় অপথে গৃহে প্রবেশ।
০৩। বাসগৃহ বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন ইমারত তাঁবুতে, জাহাজে অগ্নিকাণ্ড সাহায্য সংগঠিত ক্ষতি
০৪। এইরুপ অবস্থায় চুরি, ক্ষতি বা অনধিকার গৃহপ্রবেশ যা যুক্তিসঙ্গতভাবে এইরুপ ভয়ের সৃষ্টি করতে পারে যে অনুরুপ ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা অধিকার প্রয়োগ করা না হলে মৃত্যু বা গুরুতর জখম হইবে ইহার পরিণতি।
দন্ডবিধি আইনের ১০১ ধারা মোতাবেক দেহ রক্ষা ও ১০৪ ধারা মোতাবেক আক্রমণকারীর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য মৃত্যু ব্যতীত অন্যান্য ক্ষতিসাধন করা যাবে
তবে দন্ডবিধি আইনের ১০২ ও ১০৫ ধারা মোতাবেক দেহরক্ষা ও সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে যতক্ষণ আক্রমণকারীর আক্রমণ অব্যাহত থাকে ততক্ষণই আত্মারক্ষার ব্যাক্তিগত অধিকার থাকবে।
নোটঃ দন্ডবিধি আইনের ৯৯ ধারা মোতাবেক আত্মরক্ষার জন্য যতটুকু বল প্রয়োগের প্রয়োজন ঠিক ততটুকু বল প্রয়োগ করা যাবে, আত্মরক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতির প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই ক্ষতি করা যাবে তার চেয়ে অধিক ক্ষতি করা যাবে না, যে ক্ষেত্রে সরকারি কর্তৃপক্ষের আশ্রয় লাভের সুযোগ থাকে সেই ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করা যাবে না, সরকারি কর্মচারীর আইন সংঙ্গত কাজের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করা যাবে না যদি না মৃত্যু বা গুরুতর জখমের আশঙ্কা দেখা না দেয় ।
