ভুয়া পুলিশঃ
প্রকৃত পুলিশ আমাদের বন্ধু। তাদের কাছে আমরা বিপদে আপদে সহযোগিতা পেয়ে থাকি। তবে ভূয়া পুলিশ আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তাই অহেতুক ভয়, প্রতারণা, ক্ষতির আশংকা থেকে নিজেকে রক্ষায় প্রকৃত পুলিশ ও ভূয়া পুলিশ চেনার উপায় জেনে রাখা প্রয়োজন ।
ভুয়া পুলিশ কারাঃ
ভুয়া পুলিশ হলো সেইসব ব্যক্তি যারা প্রকৃত পুলিশ সদস্য না হয়েও পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা বা অপরাধমূলক কাজ করে । তারা সাধারণত পুলিশ ইউনিফর্ম, ব্যাজ, আইডি কার্ড বা পুলিশের মতো আচরণ করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন০১। বিভিন্ন বাহিনীর সাথে কাজ করে কিন্তু বাহিনীর সদস্য নয় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সামরিক বাহিনীর কলাকৌশল রপ্ত করে ভুয়া পুলিশের অভিনয় করে প্রতারণা করে।
০২। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিকালীন সময়ে অভিযুক্ত, সাময়িক বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত সদস্যগণ বেশিরভাগ সময় ভুয়া পুলিশ সেজে প্রতারণা করে।
০৩। অনেক সময় সামরিক বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য বা অফিসারগণ জড়িত থাকে।
০৪। প্রতারক, ঠগবাজ, খারাপ প্রকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী লোক অনেক সময় দল গঠন করে অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।
০৫। ছোটখাট বাটপার, ফাপরবাজ পুলিশ সেজে মানুষের সাথে প্রতারণা করে।
ভূয়া পুলিশ কি কি ধরনের অপকর্ম করেঃ
০১। রাস্তাঘাট প্রতারণা করে মানুষকে হয়রানি করে।
০২। সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবী ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
০৩। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন বা জমা দেওয়ার সময় আকস্মিক হামলা করে ছিনতাই করে।
০৪। প্রবাসী, ফ্রিল্যান্সার বা ধনাঢ্য বাড়িতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মত কৌশল অবলম্বন করে ভুয়া অভিযান পরিচালনা করে মূল্যবান সামগ্রী, স্বর্ণালংকার ও অর্থ নিয়ে যায়।
০৫। অহেতুক মামলা বা গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে হুমকি ধমকি দেয় এবং নগদ অর্থ দাবি করে।
০৬। পুলিশ বা কোন চাকরির প্রলোভন, মামলা নিষ্পত্তি, জামিনে মুক্ত করা ইত্যাদির আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে।
০৭। রাস্তাঘাটে পুলিশের ইউনিফর্ম পরে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে চালকদের নিকট হতে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
০৮। রাস্তায় বা বাজারে পুলিশ পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে।
০৯। পুলিশের বড় অফিসার এমন পরিচয় দিয়ে নারীদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারণা করে বা অর্থ হাতিয়ে নেয় এমনকি শারিরীক সম্পর্কে বাধ্য করে।
১০। কোন কোন সময় ভুয়া পুলিশ সেজে গ্রেফতারের নাটক করে অপহরণ করে।
ভূয়া পুলিশ চেনার উপায়ঃ
ভুয়া পুলিশ সদস্য সেজে প্রতারণা করা যাদের উদ্দেশ্য তারা স্বাভাবিক ভাবেই খুবই চালাক হয়। তাই ভুয়া পুলিশ চেনার জন্য বুদ্ধিমত্তার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তাছাড়া ভুয়া পুলিশ যাচাই করতে গিয়ে প্রকৃত পুলিশ সাথে যেন মনোমালিন্য বা অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মারধরঃ
প্রকৃত পুলিশ গ্রেফতারের সাথে সাথে কখনও মারধর করবে না, যদি পুলিশ সদস্যরা গ্রেফতারের সাথে সাথে মারধর করে তাহলে ভুয়া পুলিশ বলে নিশ্চিত হতে পারেন।
মূল্যবান অর্থঃ
মূল্যবান সম্পদ বা সামগ্রী বহন করছেন, কিন্তু কোন মামলা বা অভিযোগ নেই এমন সময় সাদা পোষাকে বা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় গ্রেফতার করতে আসলে ভুয়া পুলিশ বলে সন্দেহ করতে পারেন।
অস্ত্রঃ
ভুয়া পুলিশ আর প্রকৃত পুলিশ চেনার মূল উপায় হল অস্ত্র। যদি তারা বড় অস্ত্র (long arms) যেমন- রাইফেল, শর্টগান, এসএমজি বহন করে তাহলে তারা প্রকৃত পুলিশ মর্মে নিশ্চিত হতে পারেন। আর যদি তারা ছোট অস্ত্র ব্যবহার করে অথবা অস্ত্র বহন না করে তাহলে প্রকৃত পুলিশ কিনা আরো পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
গতিবিধিঃ
তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করুন প্রকৃত পুলিশের মূল উদ্দেশ্য হবে গ্রেফতার করা। ভুয়া পুলিশ রাস্তায় কিংবা বাড়িতে প্রবেশ করলে তাদের মূল ফোকাস হবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, ডাকাতি বা লুটপাট করা।
ওয়াকিটকিঃ
ওয়াকিটকি মাধ্যমে ভুয়া পুলিশ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেতে পারেন। প্রতারক বা খারাপ প্রকৃতির লোকদের ওয়াকিটকি বন্ধ থাকতে পারে। অন্যদিকে বেশিরভাগ প্রকৃত পুলিশের ওয়াকিটকি চালু থাকে এবং ক্রমাগত কথোপকথনের শব্দ শুনা যায়।
পোষাকঃ
ভুয়া পুলিশের পোষাকের রিবন, নেমপ্লেট, হ্যাংগিং ব্যাজ, র্যাংক ও আইডিকার্ডসহ বিভিন্ন উপকরণ এলোমেলো অবস্থায় থাকবে।
যদি মনে করেন প্রতারক পুলিশের ফাঁদে পরেছেন তাহলে নিম্নোক্ত কাজগুলো করুন।
০১। বাসায় ভুয়া পুলিশ আসলে সন্দেহ হলে প্রথম কাজ হল-বসবাসকৃত সংশ্লিষ্ট থানায় ডিউটি অফিসারের কাছে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া থানা থেকে প্রকৃতপক্ষে লোক পাঠানো হয়েছে কিনা? ( মোবাইল নাম্বার না জানা থাকলে থানার নাম লিখে গুগলে সার্চ করুন)
০২। থানার নাম্বার পাওয়া না গেলে অথবা জরুরি ভিত্তিতে ৯৯৯ ফোন করুন, তারা সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করিয়ে দেবে।
০৩। যদি পুলিশ সদস্যগণ গ্রেফতার কালে ওয়ারেন্ট দেখায় বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে আসে তাহলে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
০৪। কোনভাবেই প্রকৃত পুলিশকে হয়রানি করা উচিত নয়। এতে বাড়তি আইনী ঝামেলায় পড়বেন। বুদ্ধিমত্তার সাথে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
০৫। রাস্তাঘাটে ভুয়া পুলিশের সম্মুখীন হয়েছেন বলে মনে করলে বাঁচার উপায় হিসেবে চিৎকার দিয়ে মানুষজন জড়ো করলে ভালো হয়।
০৬। মূল্যবান সামগ্রী, অর্থ পরিবহনের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন।
০৭। ভুয়া পুলিশের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন মনে করলে পরবর্তীতে তাদের চেনার জন্য ছবি তুলে বা ভিডিও করে রাখুন।
