ভূমিকাঃ
জরুরি ভিত্তিতে পুলিশি সহায়তার জন্য ৯৯৯ এর সেবা সমূহ প্রদান করা হয়। তাই পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে ফোন করতে দ্বিধাবোধ করা উচিত নয়। থানায় গিয়ে লিখিতভাবে আইনি সহায়তার সুযোগ থাকলে সেক্ষেত্রে ৯৯৯ এ কল দেওয়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশ পুলিশ হেল্পলাইন নাম্বার ৯৯৯। এটি বিগত সরকারের যুগান্তরকারী পদক্ষেপ।হেল্পলাইনে জরুরি সেবা ছাড়াও আরো কিছু সেবা প্রদান করা হয় সে বিষয়ে আজকের পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা এবং “৯৯৯ এ কল করলে কি সত্যি পুলিশ আসে আর্টিকেলে আমরা এর উত্তর জানবো, এবং বুঝে নেব ৯৯৯ সেবার প্রক্রিয়া ও বাস্তবতা।
৯৯৯ কি?
এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি অনলাইন সেবা বলা যায়। সহজে দ্রুততর সময়ে পুলিশি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্য ৯৯৯ গঠন করা হয়। অনেক ব্যাক্তির আইনি প্রয়োজনে থানার মোবাইল নাম্বার মনে থাকে না অথবা সংগ্রহ করার সুযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে সহজে ৯৯৯ ফোন দিলে সহজে আইনি সহায়তা পেতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এটি সম্পূর্ণ টোল-ফ্রি, অর্থাৎ ফোন দিলে আপনার ফোনে ব্যালেন্স এর প্রয়োজন নেই। যেকোনো মোবাইল অপারেটর বা ল্যান্ডফোন থেকে কল করা যায়।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন৯৯৯ এর সেবা সমূহঃ
অপরাধজনক ঘটনায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে পুলিশ জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করে।
(০১) ছিনতাই, চুরি বা ডাকাতি চলাকালীন
(০২) নারী ও শিশু নির্যাতন
(০৩) সড়ক দুর্ঘটনা বা মারামারি
(০৪) অপহরণ বা নিখোঁজ
(০৫) হুমকি পাওয়া বা জীবনঝুঁকি
ফায়ার সার্ভিসঃ
যদি কোথাও আগুন লাগার মত ঘটনা জানতে পারলে ৯৯৯ ফোন দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পুলিশ দ্রুততার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগাযোগ করবে।
অ্যাম্বুলেন্সঃ
কখনও জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য যানবাহনের প্রয়োজন হলে ৯৯৯ যোগাযোগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পুলিশ অফিসার আপনার জন্য অ্যাম্বুরেন্স এর ব্যবস্থা করে দিবে।
৯৯৯ এ কীভাবে কথা বলতে হয়?
(১) আপনার নাম বলুন (২) আপনার অবস্থান বা লোকেশন জানান (৩) ঘটনার ধরন বলুন (কি ঘটছে, কে করছে, কয়জন, কোন দিক দিয়ে পালাচ্ছে ইত্যাদি) (৪) মোবাইল নম্বর ঠিক ভাবে দিন।
৯৯৯ এ কল করলে কি পুলিশ আসে?
বাংলাদেশের যে কোন স্থানে আপনি যদি অপরাধীর কবলে পড়েন বা এমন কোন সমস্যার মধ্যে পড়েন যেখানে সরাসরি থানায় এসে অভিযোগ করা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে পুলিশ অবশ্যই আপনাকে সহায়তা করার জন্য যাবে। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ পুলিশের জনবল কম তাই ছোটখাট বিষয় কিংবা পারিবারিক সমস্যার মত নগণ্য বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন দেওয়া উচিত নয়।
পুলিশ কিভাবে সাহায্য করবেঃ
যদি কোন ব্যাক্তি ৯৯৯ এ ফোন করেন তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টি সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করা হয়। থানার একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সেই ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জেনে নেয়। ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী একজন পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে দ্রুততার সহিত একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
কখন পুলিশ আসতে দেরি হতে পারেঃ
যদি ঘটনাস্থল থেকে থানা অনেক দূরে হয় তাহলে অনেক সময় পুলিশ দল আসতে দেরি হয়। তবে কাছাকাছি স্থানে পুলিশ অফিসার থাকলে দেরি হবে না। আবার ঘটনাস্থলের স্থান শনাক্ত করতে না পারলে দেরি হতে পারে। শহরাঞ্চলে পুলিশ অনেক সময় দ্রুত পৌঁছে যায়। তবে গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাট খারাপ হলে বা পাহাড়ী দুর্গম রাস্তা হলে পুলিশ আসতে দেরি হতে পারে।
ভূয়া কল দিলে কী শাস্তি হতে পারেঃ
কোন অবস্থাতেই ৯৯৯ জরুরি কারণ ব্যতীত অহেতুক ফোন দেওয়া উচিত নয়। পুলিশকে অহেতুক হয়রানি করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এমনকি ভুল বিভ্রান্তীকর তথ্যের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাছাড়া এর ফলে প্রকৃত আইনী সহায়তার পাওয়ার অধিকারী ব্যাক্তির সহায়তা পেতে বিলম্ব হতে পারে। তাই শুধু প্রকৃত প্রয়োজনে ৯৯৯ ব্যবহার করুন।
উপসংহার
৯৯৯ এর সেবা সমূহ আমাদের জান মাল ও জীবন রক্ষাকারী। আপনি যদি সত্যিই বিপদে পড়েন, ভয় পাবেন না – ৯৯৯ এ কল করুন। যথাযথ তথ্য দিলে পুলিশ অবশ্যই আপনার পাশে দাঁড়াবে।
