অপহরণ কিঃ
কোন ব্যাক্তি অন্য কোন ব্যাক্তিকে কোন স্থান হইতে গমন করিবার জন্য জোরপূর্বক বাধ্য করে বা প্রতারণামূলকভাবে প্রলুব্ধ করে তাহলে তা অপহরণ বলিয়া গন্য হবে। তাছাড়া অপহরণ কি ? অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আজকে আলোচনা করা হবে।সত্যি বলতে কি, বর্তমানে যে সকল অপরাধের সংঘটিত হচ্ছে তার মধ্যে গুম বা অপহরন অন্যতম। প্রতিদিন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যেমে অসংখ্য অপহরন বা গুমের খবর পাওয়া যায়।
নারী অপহরণসহ অন্যন্য অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিতঃ
খুন, গুরুতর আঘাত, বিবাহ করিতে বাধ্য করা, মুক্তিপণ আদায়, মানব পাচার প্রভৃতি উদ্দেশ্য বিভিন্ন বয়সের মানুষ অপহরণের শিকার হয়। প্রতিটি অপহরণের শাস্তির বিধান আইনে রয়েছে। আজকের পোষ্টের মাধ্যমে নারী অপহরণসহ অন্যন্য অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
⚖️ মাত্র ৩০০ টাকায় অনলাইনে আইনী পরামর্শ নিন
অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাবেক পুলিশ অফিসারদের মাধ্যমে যেকোন আইনী বিষয়ে পরামর্শ নিন এখনই।
🔍 বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন৯৯৯ এর সেবা সমূহ কি কি, ৯৯৯ এ কল করলে কি পুলিশ আসে ?
মনুষ্য অপহরণের শাস্তিঃ
যদি কোন ব্যাক্তি অন্য কোন ব্যাক্তিকে বাংলাদেশ হইতে বা আইনানুগ অভিভাবকত্ব হইতে অপহরণ করে সেই ব্যাক্তি যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড যার মেয়াদ ০৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানাদন্ডে দন্ডিত হবে। (দন্ডবিধি আইন ৩৬৩ ধারা)
খুন করার উদ্দেশ্য অপহরণঃ
যদি কোন ব্যাক্তি অপর কোন ব্যাক্তিকে খুনের উদ্দেশ্য অপহরণ করে বা এরুপ ব্যবস্থা করে যার ফলে খুন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাহলে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা সশ্রম কারাদণ্ড যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। (দন্ডবিধি আইন ৩৬৪ ধারা)
১০ বছরের কম বয়স্ক ব্যাক্তিকে অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বর্ণনাঃ
যদি কোন ব্যাক্তি ১০ বছরের কম বয়স্ক কোন ব্যাক্তিকে খুন করা,গুরুতর আঘাত, দাসত্ব বা অপ্রকৃত কাম লালসা চরিতাত্র করার উদ্দেশ্য অপহরণ করে তাহলে সে ব্যাক্তি মৃত্যৃদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা সশ্রম কারাদণ্ড যার মেয়াদ ১৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। (দন্ডবিধি আইন ৩৬৪–ক ধারা)
বিবাহ করিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্য অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাঃ
যদি কোন ব্যাক্তি অন্য কোন ব্যাক্তিকে জোরপূর্বক বিবাহ করতে বাধ্য বা যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অভিপ্রায়ে কোন নারীকে অপহরণ করে তাহলে সে ব্যাক্তি যে কোন মেয়াদের কারাদন্ড যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড তদুপরি জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। (দন্ডবিধি আইন ৩৬৬ ধারা)
নারী অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বর্ণনাঃ
যদি কোন ব্যাক্তি কোন নারী বা শিশুকে অপহরণ করে তাহলে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১৪ বছরের নিচে নয় এমন সশ্রম কারাদণ্ড ও ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী–২০১৮) এর ৭ ধারা।
মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্য নারী বা শিশু অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাঃ
যদি কোন ব্যাক্তি মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্য কোন নারী বা শিশুকে অপহরণ করে তাহলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী–২০১৮) এর ৮ ধারা।
মানব পাচারের উদ্দেশ্য অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বর্ণনাঃ
যদি কোন ব্যাক্তি মানব পাচারের উদ্দেশ্য কোন ব্যাক্তিকে অপহরণ,গোপন বা আটক করিয়া রাখে তাহলে তার শাস্তি ৫ বছরের নিচে নয় এবং ১০ বছরের উপরে এমন কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকার উপরে জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হবেন।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর ১০ (২) ধারা।
মানব পাচারের উদ্দেশ্য নবজাতক শিশুকে অপহরণের শাস্তি সম্পর্কে বর্ণনাঃ
তাছাড়া যদি কোন ব্যাক্তি মানব পাচারের উদ্দেশ্য কোন নবজাতক শিশুকে (৪০ দিনের কম বয়স) হাসপাতাল, সেবা–সদন, মাতৃ–সদন,শিশু–সদন বা উক্ত শিশুকে পিতা মাতার হেফাজত হতে চুরি করলে বা অপহরণ করলে অপরাধী বলে গণ্য হবেন।
কোন অপরাধগুলো করলে আপনার মৃত্যুদন্ড হতে পারে ?
উক্ত অপরাধের তাহা হইলে তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কিন্তু অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর ১০ (৪) ধারা
যদি কোন ব্যাক্তি,নারী বা শিশুর বিরুদ্ধে আলোচিত অপরাধ সংঘটিত হয় তাহলে তিনি বা তার পক্ষের কোন লোকের মাধ্যেম ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে থানায় বা আদালতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। তাহার অভিযোগ থানা গ্রহণ করলে জিআর মামলা এবং কোর্টে অভিযোগ দায়ের করলে সিআর মামলা রুজু হবে।
